জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল- ১ম পর্ব

Length: 1000 minutes|Difficulty: Standard

এই সেশনে আমরা জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের ধারণা, প্রেক্ষাপট, ভিত্তি ও লক্ষ্য সম্পর্কে জানলাম

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল এই চেতনা ও মূলনীতিসমূহের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এগুলিই এই কৌশলপত্র প্রণয়নের মূলভিত্তি।  কাজেই রাষ্ট্র ও সমাজে কার্যকরভাবে ন্যায় ও সততা প্রতিষ্ঠা এবং সফলতার সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সর্বত্র শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা করা সরকারের একটি মূলনীতি।

আলোচ্যবিষয়: .: শুদ্ধাচার জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সম্পর্কে ধারণা

শুদ্ধাচার >> জাতীয় শুদ্ধাচার >> সুশাসন ও জাতীয় শুদ্ধাচার>> বাংলাদেশে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল

শুদ্ধাচারধারণা

শুদ্ধাচার কথাটি ‘শুদ্ধ ও আচার’ শব্দের সমন্বয়ে সৃষ্টি। শুদ্ধ, নিয়মানুবর্তী ও নির্দোষ যে আচরণ, তাকেই শুদ্ধাচার বলা যায়। তাই শুদ্ধাচার বলতে আমরা সাধারণভাবে আচরণে, কর্মে ও দায়িত্ব পালনে শুদ্ধতা চর্চা ও বজায় রাখার প্রয়াশকেই বুঝে থাকি। শুদ্ধাচার শব্দের অর্থ চরিত্রনিষ্ঠা। সাধারণত ‘নৈতিকতা ও সততা’ দ্বারা প্রভাবিত আচরণ ও উৎকর্ষ সাধনকে শুদ্ধাচার বলা হয়। শুদ্ধ বলতে সহজ ভাষায় পবিত্র, সাধু, খাঁটি, পরিষ্কার, শোধিত, নিষ্কলুষ, নিষ্কণ্টক, নির্ভুল ও নির্দোষ ইত্যাদি বোঝায়। কোন মানুষের চরিত্রের বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য যখন সমাজ বা অন্য কেউ এই অভিধানগুলোর ব্যবহার ও প্রয়োগ করে, তখনই সেই মানুষ ‘শুদ্ধ মানুষ’ হিসেবে গণ্য হন। ব্যক্তি ও পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ জীবন ধারণের জন্য ভালো আচরণ, ভালো রীতিনীতি, ভালো অভ্যাস রপ্ত করাকে শুদ্ধাচার বলা হয়ে থাকে।

ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচার: 

ব্যক্তি পর্যায়ে শুদ্ধাচার হলো সততা ও নৈতিকতা দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তির উৎকর্ষ আচরণ। এ আচরণগুলির মধ্যে রয়েছে সত্যবাদী হওয়া ও কাজে কর্তব্যনিষ্ঠ হওয়া, আদর্শ, রীতিনীতি ও মূলনীতিসমূহ মেনে চলা এবং এগুলি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া। একজন মানুষের নৈতিকতা শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে এবং শুদ্ধাচার অনুসরণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। পরের ধাপে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; নৈতিক জীবন গড়ার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অপরিসীম।

প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে শুদ্ধাচার:

ব্যক্তির সমষ্টিতেই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয় এবং তাদের সম্মিলিত লক্ষ্যই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রতিফলিত হয়। প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধাচারের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, ব্যবস্থা ও কর্মপদ্ধতি যথাযথ অনুসরণ অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলি জনগণের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়, তাই প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধাচার অর্জনের জন্য ব্যক্তির শুদ্ধাচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ ব্যক্তির শুদ্ধাচারের ওপর প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধাচার নির্ভর করে। 

জাতীয় পর্যায়ে শুদ্ধাচার:

প্রতিষ্ঠানগুলি সাধারণত: পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও আন্তঃসম্পর্কের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। জাতীয় পর্যায়ে শুদ্ধাচার নির্ভর করে মূলত: দেশের প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাগুলি কত ভালভাবে আন্তঃসম্পর্ক, আন্তঃসহযোগিতা ও আন্তঃসমন্বয় বজায় রেখে পরিচালিত হয়, তার ওপর। এসব প্রতিষ্ঠানের আচরণের সমষ্টিগত প্রভাব এমন পরিবেশ তৈরি করে যেখানে দুর্নীতির ব্যাপারে সহজে প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়। এরকম একটি পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

জাতীয় শুদ্ধাচার ধারণা

১৯৯০ সালে Transparency International (TI) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেরেমি পপ National Integrity System ধারণাটিকে বৈশ্বিক পরিসরে জনপ্রিয় করে তোলেন। জাতীয় শুদ্ধাচার হচ্ছে একটি আদর্শিক মানদণ্ড যা নিদিষ্ট জাতির বা সমাজের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, নীতি, প্রথা, ধর্ম প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা মানুষের আচরণের সমষ্টি। ‘জাতীয় শুদ্ধাচার’ ধারণাটি ‘National Integrity System Temple’ ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। টেকসই উন্নয়ন, আইনের শাসন, সকল নাগরিকের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে, কেবল আইন সভা, বিচার বিভাগ ও জনপ্রশাসন নয়, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া, বেসরকারিখাত এবং অন্যান্য সকলকে তাদের শুদ্ধাচার বৃদ্ধি করা দরকার। যদি এসব স্তম্ভের যেকোন একটি শুদ্ধাচার অনুশীলনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ঘরটি তার  ভারসাম্য হারাবে এবং টেকসই উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যসমূহ অর্জন ব্যাহত হবে। 

জাতীয় শুদ্ধাচার ব্যবস্থা বা NIS কেবল উন্নয়নশীল দেশে যে প্রবর্তন হয় তা নয়, অনেক উন্নত দেশ যেমন নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি দেশেও এ ধরনের NIS ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার এমন একটি ব্যবস্থা যা ওপরে উল্লেখিত স্তম্ভগুলির শুদ্ধাচার অনুশীলনের ওপর নির্ভর করে। 

সমাজ ও রাষ্ট্রে দুর্নীতি দুর ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। রাষ্ট্র আইনকানুন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, সমাজ তা প্রতিপালন করে; সেই সঙ্গে সমাজের নীতিচেতনা ও মূল্যবোধও রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয়। এই সম্পর্কের জটাজালে ব্যক্তি-মানুষের নৈতিকতা ও শুদ্ধতার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠা যেমন প্রয়োজন, তেমনি তার সাথে যুক্তরূপ প্রতিষ্ঠানগত শুদ্ধাচার উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠা জরুরি।  

সুশাসন জাতীয় শুদ্ধাচার

সুশাসন ও জাতীয় শুদ্ধাচার অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ‘সুশাসন’ অর্থ হলো ভালো শাসন। আর শাসন ধারণাটি আমাদের কাছে নতুন নয়। এটি মানব সভ্যতার মতোই পুরনো। শাসন বলতে সাধারণত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বা আইন, নীতি, পদ্ধতি ইত্যাদি প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং এসব  গৃহীত সিদ্ধান্ত/নীতি পদ্ধতি কার্যকর, দক্ষ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। শাসন ধারণাটি বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহৃত হয় যেমন, করপোরেট শাসন, বৈশ্বিক শাসন, জাতীয় শাসন, স্থানীয় শাসন ইত্যাদি। শাসন প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক উভয় ধরনের Actors  সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত থাকে এবং আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়।

সুতরাং শাসন প্রক্রিয়ায় অনেক Actors -এর মধ্যে সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ Actor। অন্যান্য ‍Actors -এর মধ্যে মিডিয়া, নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়ী ইত্যাদি বহু Actors রয়েছে । শাসন ধারণাটি নব্বই দশকে ভিন্নমাত্রা লাভ করে সুশাসন ধারণায় পরিবর্তিত হয়। মূলত: রাষ্ট্রের নাগরিকমণ্ডলীর মধ্যে সমতা বিধান, মানবাধিকার সংরক্ষণ, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সম্পদের স্থায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা হলো সুশাসন। সুশাসন হলো এমন এক আদর্শিক ব্যবস্থা, যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটায় এবং রাষ্ট্রীয় কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, প্রশাসনিক দক্ষতা, আইনের শাসন, মানবাধিকার তথা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। একটি রাষ্ট্রের সুশাসনের কতগুলি বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে ইতোমধ্যে একটি বৈশ্বিক ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে। আর সেগুলি হলো: 

১.অংশগ্রহণ: সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণ সুশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

২.স্বচ্ছতা: যথাযথ নিয়ম-নীতি মেনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন এবং এই নীতি বা সিদ্ধান্ত যাদের প্রভাবিত করবে তাদের জন্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকা

৩. জবাবদিহিতা: এটি সুশাসনের অন্যতম চাবিকাঠি। এর অর্থ হলো জনগণের কাছে সরকার ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা

৪.ঐক্যমতের শাসন: সমাজে ভিন্নমত ও পথ থাকা স্বাভাবিক। এসবের মধ্যে বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যমত্য তৈরি করা

৫. সংবদেনশীলতা: একটি যুক্তিসঙ্গত সময়সীমার মধ্যে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করা

৬. আইনের শাসন: যথাযথ আইনি কাঠামো এবং তারি নিরপেক্ষ প্রয়োগ  

৭. সুযোগের সমতা ও অন্তর্ভূক্তিতা: ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, এবং জাতি নির্বিশেষে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভূক্ত করা

৮. দক্ষতা ও কার্যকারিতা: সিদ্ধান্ত বা নীতির দক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগ

নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য এবং স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত করার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা রাষ্ট্রের আবশ্যকীয় কর্তব্য। সেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতি দমন এবং শুদ্ধাচার প্রতিপালন একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য পরাকৌশল। জাতীয় শুদ্ধাচারের মূল লক্ষ্য হল শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। 

বাংলাদেশে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও ক্রমাগত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের যাতাকলে এবং বিভিন্ন অর্থ-সামাজিক পশ্চাদপদতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিকতা, দারিদ্র্য, সরকারি কাজে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ না থাকা সর্বোপরি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার অভাব প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।

দেশে রাষ্ট্রীয় কাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সময়  বহুবিধ আইন, বিধি-বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে কিন্তু দুর্নীতিকে দমন করা সম্ভব হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নমুখী আলোচনা হয়। বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, অসাধুতা ও অনৈতিকতার চর্চারোধে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দমনে শুদ্ধাচার প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতীয়মান হয়। রাষ্ট্রের সকল উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের সেবা খাত। সেখানে শৃঙ্খলা, সুশাসন এবং সর্বোপরি শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের আশা করা বৃথা। শুদ্ধাচারের চর্চা না থাকলে বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, দুর্নীতি সহসাই বাসা বাঁধে। ফলে সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া চরম হুমকির মধ্যে পড়ে।

আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ্য ও দায়িত্ব হলো আইনের শাসন, সমতা, মৌলিক মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন সুশাসন ও সকল ক্ষেত্রে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা। এই বিবেচনাবোধ থেকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র প্রণীত হয়।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় এবং অরাষ্ট্রীয় /সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমুহের পদ্ধতিগত সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সর্বোপরি একটি সমন্বিত ও সংঘবদ্ধ  উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে শুদ্ধাচারকে একটি আন্দোলন হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আর এই কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে পেশাদার সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় প্রতিনিধিরা। 

আলোচ্য বিষয় ১.২: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের প্রেক্ষাপট, ভিত্তি ও লক্ষ্য

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়নের প্রেক্ষপট ও যৌক্তিকতা> জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভিত্তি> জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের লক্ষ্য-ভিশন ও মিশন

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়নের প্রেক্ষাপট যৌক্তিকতা

অনেক প্রচেষ্টা ও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঘটনা, নীতি, প্রতিশ্রুতি এবং নাগরিক সমাজের অব্যাহত চাপ বাংলাদেশে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়নে ভূমিকা রাখে। কোন কোন যৌক্তিকতার ওপর দাঁড়িয়ে এই কৌশলপত্র প্রণীত হয় তা এখানে বর্ণনা করা হলো।

দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি রোধে সরকারের অবস্থান

রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সরকার বিভিন্ন আইন-কানুন, প্রথা, পদ্ধতি, এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। আশা করা হয়েছিল যে, এগুলি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বাস্তবে প্রতীয়মান হয় যে, দক্ষ ও কার্যকর প্রয়োগের অভাবে এগুলির মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন আইন ও কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনও এখানে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াল। এছাড়া, দেশে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে এবং এর সাথে বিপুল সম্পদের সংযোগও ঘটেছে। ফলে আগের সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও পদ্ধতির মাধ্যমে এগুলির সুষ্ঠ বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে সরকারি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লোকজনের দুর্নীতির সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বোপরি সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়জনিত কারণে সমাজে দুর্নীতির প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সকল উদ্যোগের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই সরকারের মধ্যে শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়নের তাগিদ সৃষ্টি হয়।

জাতিসংঘ দুর্নীতি বিরোধী সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও নাগরিক সমাজের দাবি

স্বাধীনতা লাভের শুরু থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের গৃহীত সকল নীতি ও কনভেনশনে অব্যাহতভাবে সমর্থন প্রদান করে আসছে। আমোদের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, ‘….. আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘ সনদের নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা — এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি–।’ United Nations Convention Against Corruption (UNCAC) জাতিসংঘের একটি উল্লেখযোগ্য কনভেনশন। দূর্নীতি নির্মুলের জন্য ফৌজদারী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে দূর্নীতির প্রতিকার ছাড়াও দুর্নীতির ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই কনভেনশনে। এই কনভেনশনের ৫.১ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, ‘প্রত্যেক সদস্যরাষ্ট্র তার আইন ব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী কার্যকর ও সমন্বিত দুর্নীতিরিরোধী নীতি প্রণয়ন করবে যা সমাজের অংশগ্রহণকে বৃদ্ধি করবে এবং আইনের শাসন, জনসম্পদ এবং জনসংযোগের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নীতির প্রতিফলন ঘটাবে। বাংলাদেশ এই কনভেনশনের একটি অনুসমর্থনকারী দেশ এবং এ নীতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ। অন্যদিকে, নাগরিক সমাজও এই অঙ্গীকার প্রতিপালনের ব্যাপারে মাঠে যেমন সোচ্চার ছিল তেমনি অব্যাহত চাপ সৃষ্টি করে রেখেছিল সরকারের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে জাতির কাছে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

দুর্নীতি বিস্তারের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার এবং সরকারের আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ

২০০৮ জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায় সকল রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবার অঙ্গীকার করেছে। এসব ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বহুমূখী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করা ছিল। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তৎকালীন সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সাধন, নতুন নিয়ম, নীতি ও আইন প্রণয়ন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নানা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই সময়ে সরকার জনগুরুত্বপূর্ণ অনেক আইন ও নীতি প্রণয়ন করে। যেগুলোর মধ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯, সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৯, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০, জাতীয় শিশুশ্রম নিরসন নীতি ২০১০ ইত্যাদি’ গুরুত্বপূর্ণ। সামগ্রিকভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এসব রাজনৈতিক দলগুলির ঐক্যমত্য এবং আইন কানুন ও নিয়ম নীতি জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়নে ও প্রতিপালনে অবদান রাখে।

ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, রূপকল্প ২১ এবং বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০ – ২০২১ এ সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন

প্রথম ও দ্বিতীয় ‘দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্রে’ দুর্নীতিকে উন্নয়নের একটি প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১ – ২০১৫ দলিলটির ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ’ শিরোনাম উপ-অনুচ্ছেদে সরকার দুর্নীতি সুরাহা করার গুরুত্ব স্বীকার করে এবং অধিকতরহারে E-governance ব্যবহার করে, সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন করে, নাগরিকের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার প্রদানের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে দুর্নীতির সুযোগ হ্রাসের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। রূপকল্প ‘২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০ -২০২১ এ দুর্নীতি দমনের উদ্যোগকে একটি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করে সরকারি কাজে ‘জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা’, ‘স্বচ্ছ সংগ্রহ পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা’, ‘নৈতিকতা ও মূল্যবোধের উন্নয়ন সাধন’, ‘কার্যকর ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠা’ এবং ‘আইন-শৃঙ্খলা’ পদ্ধতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। সরকারি দলিলে দুর্নীতি বিরোধী এই অবস্থান জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়নের ভিত্তি করে দেয়।

সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ

সরকারি বেসরকারি অফিস-আদালত এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমূহে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অতি সহজে কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ভূমি রেকর্ড, থানায় সাধারণ ডায়েরি, মূল্য সংযোজনের হিসাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা পরীক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্নীতি হ্রাস করতে সক্ষম। সে কারণে সরকার তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুতায়িত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা জাতীয় শুদ্ধাচার প্রণয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের স্বীকৃতি

দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতকরণের কথা বলা হয়েছিল। এ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যে সংবিধান আমরা লাভ করেছি, সে সংবিধানের চেতনা হলো, ‘বাংলাদেশ হবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শুদ্ধাচারী সমাজ, এর নাগরিকবৃন্দ, পরিবার, বাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সিভিল সোসাইটি হবে দুর্নীতিমুক্ত ও শুদ্ধাচারী’। ব্যক্তি মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণসহ সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্র আইন-কানুন বিধিবিধান প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়ন করে। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত আমাদের সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার কতগুলি মূলনীতি নির্ধারিত হয়/হয়েছে। এই মূলনীতিগুলো হলো:

১. মানুষের উপর মানুষের শোষণ থেকে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ নির্মাণ নিশ্চিতকরণ (১০ অনুচ্ছেদ);

২. মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ (১১ অনুচ্ছেদ);

৩. মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিতকরণ (১১ অনুচ্ছেদ);

৪. সকল নাগরিকের জন্য সুয়োগের সমতা নিশ্চিতকরণ (১৯ অনুচ্ছেদ);

৫.নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন এবং সম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ (১৯ অনুচ্ছেদ);

৬. জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ (১৯ অনুচ্ছেদ);

৭. প্রত্যেকের যোগ্যতা বিবেচনা করে কর্মানুযায়ী পারিশ্রমিক নিশ্চিতকরণ (২০ অনুচ্ছেদ)

৮. কোন ব্যক্তিকে অনুপার্জিত আয় থেকে অসমর্থকরণ ( ২০ অনুচ্ছেদ);

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল এই চেতনা ও মূলনীতিসমূহের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এগুলিই এই কৌশলপত্র প্রণয়নের মূল ভিত্তি। কাজেই রাষ্ট্র ও সমাজে কার্যকরভাবে ন্যায় ও সততা প্রতিষ্ঠা এবং সফলতার সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সর্বত্র শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা করা সরকারের একটি মূলনীতি।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের লক্ষ্যভিশন মিশন

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের লক্ষ্য বা রূপকল্প বা  ভিশন: সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মিশন বা অভিলক্ষ্য: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা

এই কৌশলটির রূপকল্প বা লক্ষ্য হল ‘সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়’ রাষ্ট্র এবং সমাজ হিসেবে এটিই বাংলাদেশের গন্তব্য; আর সেই গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য রাষ্ট্র এবং সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে জরুরি কাজ। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলপত্র হিসেবে বিবেচিত এবং সরকার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হিসেবে এটি প্রণয়ন করেছেন। শুধুমাত্র দুর্নীতি উৎপাটন নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির প্রত্যাশায় ২০১২ সালে কৌশলটি প্রণীত হয়।

ব্যক্তি মানুষের নৈতিকতার শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকে। তার পরের ধাপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল এগুলির মধ্যে নৈতিকতা ও সততা অনুশীলনের ওপর জোর প্রদান করেছে। সরকারি নির্বাহী বিভাগের জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ সরকারি কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা এবং এগুলিতে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি প্রতিরোধ ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায়ই জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলটির মূল লক্ষ্য।

রিলেটেড ডকুমেন্টস