জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল- ২য় পর্ব

Length: 100 minutes

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণের নতুন এই সেশনে সবাইকে স্বাগত। গত সেশনে আমরা জেনেছি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আজ জানবো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল লক্ষ্য বা এর  ভিশন কী?

আলোচ্য বিষয়: ১.৩: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল উপাদান ও অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ

মূল উপাদান

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সংবিধান, প্রতিষ্ঠান, আইন কানুন এবং এর বাস্তবায়নের সাথে জড়িয়ে আছে। শুধুমাত্র দুর্নীতির মূলোৎপাটন নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রে একটি ন্যায়পরায়ণতাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরি করার প্রত্যাশায় ২০১২ সালে কৌশলটি প্রণীত হয়। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল উপাদান হলো শুদ্ধাচার। আর শুদ্ধাচারের প্রতিফলন ঘটে নৈতিকতা ও সততার অনুশীলন এবং এর মাধ্যমে আচরণগত উৎকর্ষতা সাধনের মধ্য দিয়ে। ব্যক্তি পর্যায় থেকে এই শুদ্ধাচার সূচনা হতে হয়। ব্যক্তির দায়বদ্ধতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা এবং চরিত্রনিষ্ঠা জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের অন্যতম উপাদান। 

অন্যদিকে, ব্যক্তির সমষ্টিতে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য পূরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজের প্রয়োজন পূরণ হয়। প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় আইনকানুন এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মনীতি প্রণয়ন করে ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন করে প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের এই শুদ্ধাচারের ওপর ব্যক্তির শুদ্ধাচার নির্ভর করে।  তাই প্রতিষ্ঠান হলো জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্রটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত। ১ম অধ্যায়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্র প্রণয়নের পটভূমি, প্রাসঙ্গিক আইন ও নীতি এবং এই কৌশলপত্রের ভিশন (রূপকল্প) ও মিশন (অভীষ্ট লক্ষ্য), ২য় ও ৩য় অধ্যায়ে  জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্রের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত মেয়াদভিত্তিক (স্বল্প মেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী) কর্মপরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন এবং এসব প্রতিষ্ঠানসমূহের পারঙ্গমতা পরিমাপক সূচক এবং সর্বশেষ ৪র্থ অধ্যায়ে জাতীয় কৌশলপত্র বাস্তবায়ন কাঠামোরে বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান

শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের ভিত্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত যেমন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও এনজিও এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসমুহের ভূমিকাও সমধিক গুরুত্বপূর্ণ। 

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমুহ তিনটি অঙ্গে বিভক্ত- বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ। তারা স্বাধীন সত্ত্বায় নিজ নিজ কর্মপরিধিতে যথাক্রমে বিচারকার্য, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও নির্বাহী কার্য পরিচালনা করে। 

সংবিধান অনুযায়ী গঠিত আরও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেমন, নির্বাচন কমিশন, মহা-হিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, সরকারি কর্ম কমিশন, ন্যায়পাল, যারা সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত এবং যারা বাজেট ও আর্থিক নিয়মাবলি অনুসরণ সাপেক্ষ নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে স্বাধীনভাবে তাদের কার্য সম্পাদন করে। 

অন্য আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা আলাদা আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট, এবং ‘সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ” হিসেবে অভিহিত; যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ইত্যাদি। 

সংবিধানে স্থানীয় শাসনের যে – ব্যবস্থা নির্দেশ করা হয়েছে তার পরিপেক্ষিতে গ্রাম ও শহরের স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠান যেমন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এসব সংসদের আইন দ্বারা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।  দূর্নীতি দমন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখিত সব প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের দায়বদ্ধতা ও দুর্নীতিমুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত আইনে যেসব কর্মকাণ্ডকে দুর্নীতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা হলো-

সহজ কথায় সরকারি কর্মচারীদের বৈধ পারিশ্রমিক ব্যতীত যেকোনো ধরনের বকশিশ গ্রহণ; সরকারি কর্মচারীদের অসাধু উপায়ে প্রভাবিত করার জন্য বকশিশ গ্রহণ; সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বিনামূল্যে মূল্যবান বস্তু গ্রহণ; কোন মানুষের ক্ষতি সাধনে সরকারি কর্মচারীদের আইন অমান্যকরণ; সরকারি কর্মচারীর বেআইনী ব্যবসা পরিচালনা; কাউকে সুবিধা প্রদানের জন্য সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আইনের নির্দেশ অমান্যকরণ, ভুল রেকর্ড ও লিপি প্রস্তুতকরণ; অসাধু উপায়ে সস্পতি আত্মসাৎকরণ; অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ; প্রতারণা; জালিয়াতি, সরকারি নথিপত্র ও রেজিস্টার, জামানত উইল ইত্যাদি জালকরণ; হিসাবপত্র বিকৃতকরণ, অর্থ পাচার ইত্যাদি। 

দুর্নীতি প্রতিরোধ ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মোট ১৬ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসবের মধ্যে ১০টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং অবশিষ্ট ৬টি অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানসমূহের তালিকা নিন্মোক্ত ছকে উল্লেখ করা হলো:

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানঅরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান
১. নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন ২. জাতীয় সংসদ ৩. বিচার বিভাগ ৪. নির্বাচন কমিশন ৫.অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ৬.সরকারি কর্ম কমিশন ৭.মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় ৮. ন্যায়পাল ৯. দুর্নীতি দমন কমিশন ১০.স্থানীয় সরকার১.রাজনৈতিক দল ২.বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ৩.এনজিও ও সুশীল সমাজ ৪. পরিবার ৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  ৬. গণমাধ্যম

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্রে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহের শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপট ও চ্যালেঞ্জ বর্ণনা করা হয়েছে এবং লক্ষ্য, সুপারিশ, ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রত্রে এই ১৬টি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা আলাদা করে সর্বমোট ১১৫টি কার্যক্রম চিহ্নিত করা আছে এবং এগুলোর স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করার কথা বলা আছে। NIS বাস্তবায়নের জন্য কৌশলপত্রে বিধৃত এসব কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজেদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।    

আলোচ্য বিষয়: ১.৪: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে বাস্তবায়ন কাঠামো ও পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা

জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন কাঠামো

রাষ্ট্র ও সমাজে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। তাই সরকারকে অব্যাহতভাবে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন হবে। শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার উচ্চ গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বপ্রণোদিত হয়ে চিহ্নিত পথরেখা অনুসরণ করে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। আর এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন কারিগরি সহায়তা ও সম্পদ সরবরাহ করবে। সুশীল সমাজ ও শিল্প-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও জনপ্রশাসন সহযোগিতা করবে এবং কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করবে।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন কাঠামোটির পাঁচটি পর্যায় দৃশ্যমান। নিম্নোক্ত চিত্রে পর্যায়গুলো তুলে ধরা হলো।

ক. জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদ:

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত। এই পরিষদ জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ থেকে মনোনীত সদস্য মনোনীত সংসদ সদস্য, সংবিধান ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে মনোনীত প্রতিনিধি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, এনজিও ও সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও শিল্প বাণিজ্য সংস্থার প্রতিনিধি নিয়ে এই পরিষদ গড়ে উঠে। সুশীল সমাজ, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সদস্যগণ সরকার কর্তৃক মনোনীত হন। এই উপদেষ্টা পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভায় মিলিত হবেন। সভায় শুদ্ধাচার অনুশীলন পর্যালোচনা ও পরিবীক্ষণ করবেন এবং এ সম্পর্কিত বিষয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করবেন।

. নির্বাহী কমিটি: জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা কমিটিকে সহায়তা করার জন্য নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটি জাতীয় শুদ্ধাচার কমিটিকে সবরকম সহায়তা প্রদান করে যাতে তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে। নির্বাহী কমিটির প্রধান হলেন অর্থমন্ত্রী। আর অন্যান্য সদস্যরা হলেন আইন মন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তা, সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধবর্গ। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় করা, সমাজে ও রাষ্ট্রে শুদ্ধাচারের অনুশীলন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান, জাতীয় পর্যায়ে NIS বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন এবং NIS’র অব্যাহতভাবে উন্নয়ন ও পরিশীলিত করা এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

.জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিট: মন্ত্রী পরিষদ সচিবের তত্ত্বাবধানে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের প্রশাসনিক সংস্কার ও বাস্তবায়ন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের একটি ইউনিট ‘ জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিট হিসেবে কাজ করে। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয় ও মনিটরিং করা, NIS বাস্তবায়নের জন্য সক্ষমতা বিকাশের জন্য কার্যক্রম গ্রহণ, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার বাস্তবায়ন এবং গণসেবা সরবরাহ ব্যবস্থা মনিটরিং করা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের NIS বাস্তবায়নের অগ্রগতি মানিটরিং, সেবার গুণগত মান এবং প্রশাসনিক সংস্কারের গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা, জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদে ও নির্বাহী কমিটির সভায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে সুপারিশ, পরামর্শ ও প্রস্তাবনা তুলা ধরা হচ্ছে জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিটের দায়িত্ব। এই ইউনিট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে  নৈতিকতা ফোকল পয়েন্ট’-এর মাধ্যমে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে বিধৃত কর্মপরিকল্পনা অনুসারে বিস্তারিত কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনা প্রদান করে।

. নৈতিকতা কমিটি : জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নকে তরান্বিত করার জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানসমূহ স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের জন্য নৈতিকতা কমিটি গঠন করে। এই কমিটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা দ্বিতীয় প্রধান কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত। নৈতিকতা কমিটির একজন সদস্যকে নৈতিকতা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়, যিনি প্রতিষ্ঠানের ভিতরকার কার্যক্রমের সমন্বয় করেন এবং মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান করেন। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সফলতা, অর্জন, এবং বাধাসমূহ চিহ্নিত করা, চিহ্নিত বাধাসমূহ দূর করার জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা, শুদ্ধাচার বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মনিটরিং করা, এবং মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের আওতাধীন জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিটের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হলো এই কমিটির দায়িত্ব।

. প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিট: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে অর্ন্তভূক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিকতা ফোকল পয়েন্টের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিট গঠিত হয়। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে বিধৃত পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এই ইউনিটের অন্যতম দায়িত্ব।

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও পর্যালোচনা

জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিট শুদ্ধাচার সম্পর্কিত সকল নীতি-নির্ধারণ, কার্যক্রম-বাস্তবায়ন, তাদের সমন্বয় ও অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং নতুন নীতি ও কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। 

কৌশলপত্রে উল্লেখিত মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানসমুহে গঠিত ইউনিটসমূহ তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিটের কাছে প্রদান করে।  জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন ইউনিট এ সকল প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও  সমন্বয় করে তা জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করে। একইসাথে বাস্তবায়ন ইউনিট জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদের সকল নির্দেশনা ও পরামর্শ মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের ইউনিটকে অবগত করে এবং তাদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করে।  সুশীল সমাজ ও এনজিও সমূহের শুদ্ধাচার কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরিবীক্ষণ করার দায়িত্ব এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর। আর বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের শুদ্ধাচার কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরিবীক্ষণের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়ের নৈতিকতা কমিটির। এই কমিটি শিল্প ও বণিক সমিতির মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের শুদ্ধাচার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরীবিক্ষণ করে।