জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল- ৩য় পর্ব

Length: 100 minutes

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রশিক্ষণের নতুন সেশনে সবাইকে স্বাগতম। গত সেশনে আমরা জেনেছি জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মূল লক্ষ্য এবং এর  ভিশন ও মিশন সম্পর্কে। আজকের সেশনে আমরা জানবো শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নের উপায় বা মাধ্যম।

আলোচ্য বিষয়: ১.৫: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রতিষ্ঠার প্রধান প্রধান হাতিয়ার বা টুলস 

জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল কেবল কতগুলি নীতির সমষ্টি নয়। এটির লক্ষ্য হলো জাতীয় শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। তাই সকল নাগরিককে জাতীয় শুদ্ধাচার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। 

‘সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা’ এদেশের সকল মানুষের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। সেই লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য রাষ্ট্র, তার প্রতিষ্ঠানসমূহে ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে তা-ই সকলের প্রত্যাশিত। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল এই প্রত্যাশা পুরণের একটি অবলম্বন। 

সরকার ইতোমধ্যে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা, সিটিজেন চার্টার, গণশুনানী, হুইসেল ব্লোয়ার সংরক্ষণ ব্যবস্থা, গভর্নেন্স, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ, Annual Performance Agreement (APA), উত্তম চর্চা অনুসন্ধান, তথ্য অধিকার আইন, ইত্যাদি ব্যবস্থা ও পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে। এগুলি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহে সুশাসন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। নাগরিকরা এসব হাতিয়ারের ব্যবহার বৃদ্ধি করে প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে এবং দুর্নীতি দূরীকরণে তথা সমাজে ও রাষ্ট্রে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ্ধতি ও ব্যবস্থা নিচে বর্ণনা করা হলো:

নাগরিক সনদ (Citizen Charter)

নাগরিক সনদ কী?

নাগরিক সনদ হচ্ছে এমন একটি মাধ্যম যা জনপ্রশাসন, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকগণকে  জনসেবা ও তা প্রদানের উপায় নির্ধারণ ও তা উন্নয়নে সহায়তা করে। এটি একটি প্লাটফরম যেখানে সরকারি কর্মকর্তা এবং নাগরিকগণ তাঁদের প্রয়োজন, দাবি ও সমস্যাসমূহ নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং কীভাবে সেবার মান আরও উন্নত করা যায় তা নিয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত আসতে পারেন।

নাগরিক সনদের উদ্যোগ একটি গতিশীল এবং অব্যাহত প্রক্রিয়া। কেননা নাগরিকদের চাহিদা যেমন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে, সেবাপ্রদানের ধারায়ও আসছে পরিবর্তন এবং যুক্ত হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের মতো নতুন পদ্ধতি।

সরকারি কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা, সংলাপ ও মতবিনিময়ই হচ্ছে প্রতিটি সফল নাগরিক সনদের মূল বা প্রাণস্পন্দন।

নাগরিক সনদের  প্রক্রিয়া অংশটির পুরোটাই  হচ্ছে  সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিকদের মধ্যে মতের আদান প্রদান যা সনদ প্রণয়নের সময় বা এর আগে ও পরে করা হয়ে থাকে। এ অব্যাহত প্রক্রিয়ায় দেখা হয় স্থানীয় কী কী সেবা প্রয়োজন এবং সরকারি কর্মকর্তাগণ কতটা মেটাতে সমর্থ।

নাগরিক সনদের মৌলিক নীতি

নাগরিক সনদের লিখিত রূপই সকলের নিকট বেশি পরিচিত। বাংলাদেশের সকল অফিসে এ দলিল বা অঙ্গীকারনামা দেখতে পাওয়া যায়। এটি সকল অফিসের জন্য প্রযোজ্য। জেলা প্রশাসক অফিসে, পুলিশ স্টেশনে, ভূমি অফিসের প্রবেশ পথে, স্বাস্থ্য অফিসে বা ক্লিনিকের দেয়ালে এসব নাগরিক সনদ টানানো দেখা যায়। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েব সাইটেও নাগরিক সনদ দেখা যায়। এসব অঙ্গীকার বা বিজ্ঞপ্তি শেষ কথা নয়। এগুলো পরিবর্তনীয় এবং সবসময় হাল নাগাদ করতে হয়।

দেশের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য মতবিনিময়, সনদ রচনা, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়নের এই চক্রটি অব্যাহতভাবে অনুসরণ করতে হয়।

নাগরিক সনদের মৌলিক নীতিগুলি হচ্ছে:

১. জনসাধারণের চাহিদা বা প্রত্যাশা পূরণে সেবার একটি মানদন্ড নির্ধারণ

২. জনগণের চাহিদা এবং সেবাপ্রদানকারী সামর্থ্য বিবেচনা করা

৩.সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণ এবং সেবা প্রদানকারীদের সম্পৃক্তকরণ

৪. তথ্য সরবরাহ ও পরিবীক্ষণ এর মাধ্যমে  স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করণ

৫.নাগরিকদের অভিযোগ করার এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রকাশ্য পদ্ধতি চালুকরণ

৬. সেবার উৎকর্ষ বিধান এবং সাশ্রয়ী উপায়ে জনগণের অর্থর উত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, এবং

৭. সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ধৈর্য, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও একাগ্রতা নিশ্চিতকরণ

নাগরিক সনদের উপাদান

নাগরিক সনদে স্থানীয় জনগণের সেবার প্রয়োজনীয়তা এবং স্থানীয় সেবাদানকারীর সামর্থ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠান ভেদে, স্থানভেদে নাগরিক সনদ ভিন্ন হলেও নাগরিক সনদ গুলো একই উপাদানে তৈরি; এ সব উপাদান হচ্ছে:

  • সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের  ভিশন, মিশন বিবৃতি;
  • সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত সেবা সমূহের বিস্তারিত বিবরণ;
  • নাগরিক সেবা
  • দাপ্তরিক সেবা
  • অভ্যন্তরীণ সেবা
  • সেবা গ্রহণকারী নাগরিক বা জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিস্তারিত বিবরণ;
  • প্রধান প্রধান কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের তথ্য;
  • সেবাগ্রহণকারী নাগরিক বা জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে প্রত্যাশা কী তার উল্লেখ;
  • অভিযোগ নিষ্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ এবং কিভাবে সেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে তার উল্লেখ;
  • অন্যান্য অঙ্গীকার, যেমন, সেবা প্রদানে ব্যর্থতায় ক্ষতি পূরণ প্রদেয় হলে তার উল্লেখ;
  • সেবাসমূহের অব্যাহত উন্নয়নের  প্রয়োজেনে নাগরিকদের সাথে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা ও উপায় বের করা;
  • তথ্য প্রদান ব্যবস্থা বা ফিডব্যাক বা মতামত গ্রহণের বিধান।

অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা ( Grievance Redress System – GRS)

আমাদের সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, ‘ সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য’। আর সেবার মান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন জনসেবা প্রদানকারী দপ্তরসমূহের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা। অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (GRS) জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণে একটি কার্যকরী পদ্ধতি। এই পদ্ধতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে কোন প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও কার্যকারিতা পরিমাপের সূচক হিসেবে এটি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। তাই আমাদের দেশেও সরকার জনগণের নিকট সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং সুশাসন সুসংহতকরণের মাধ্যমে ভোগন্তিবিহীন জনসেবা সরবরাহের উদ্দেশ্যে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (Grievance Redress System) প্রবর্তন করে।

কি কি বিষয়ে অভিযোগ করা যাবে?

.নাগরিক অভিযোগ (Public Grievance) 

সরকারি দপ্তর অথবা আইনের আওতায় নিবন্ধিত সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুত সেবা বা পণ্য এবং সেবা প্রদান পদ্ধতি সম্পর্কে কোনো নাগরিকের অসন্তুষ্টি অথবা প্রদেয়/প্রদত্ত সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত বিধি-বহির্ভূত কাজ অথবা নাগরিকের বৈধ অধিকার প্রদানে অস্বীকৃতির বিষয়ে দাখিলকৃত অভিযোগ নাগরিক অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।

. সরকারি কর্মচারীর অভিযোগ (Staff Grievance)

সরকারি দপ্তরে কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হতে কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে তাঁর প্রাপ্য যেকোনো সেবা বা বৈধ অধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অসন্তুষ্ট বা সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিকারের জন্য আবেদন দাখিল করলে তা কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ হিসেবে গণ্য হবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের পেনশন, আনুতোষিক, আর্থিক সুবিধা-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগও এ শ্রেণির অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত হবে।

. প্রাতিষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক অভিযোগ (Institutional Grievance)

কোনো সরকারি দপ্তরের প্রতিশ্রুত সেবা বা পণ্য এবং সেবা প্রদান পদ্ধতি বা বৈধ অধিকার-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো দপ্তর কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগ দাপ্তরিক অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কারা অভিযোগ করতে পারবেন?

সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান অথবা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধি এবং ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় (বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী অথবা সন্তান) প্রতিনিধি হিসেবে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন। দাপ্তরিক-অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধান অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

কার নিকট অভিযোগ দাখিল করতে হয়?

সকল সরকারি দপ্তরে সেবা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং তা প্রতিকারের জন্য একজন অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) দায়িত্ব পালন করেন:

  • জেলা, বিভাগীয়/আঞ্চলিক পর্যায়ের দপ্তর এবং অধিদপ্তর/সংস্থা/অন্যান্য দপ্তরের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা হবেন দপ্তর প্রধান অথবা তাঁর মনোনীত একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। জেলা পর্যায়ের দপ্তরের অনিক আওতাধীন ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরসমূহের অনিক হিসেবে গণ্য হন; এবং
  • মন্ত্রণালয়/বিভাগের অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা হবেন একজন যুগ্মসচিব।

কীভাবে অভিযোগ দাখিল করবেন?

অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা-সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (www.grs.gov.bd)-এর মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করা যাবে। এ ছাড়া ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে (ইমেইল, ই-ফাইল অথবা কল সেন্টারের মাধ্যমে) অথবা প্রচলিত পদ্ধতিতে (সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অথবা ডাকযোগে) অভিযোগ দাখিল করা যাবে। মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলে দাখিলযোগ্য অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিতে সচিবালয়ের গেটে অবস্থিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্রে দাখিল করা যাবে। অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরম (‘ক-১’ অভিযোগ দাখিল ফরম) ব্যবহার করতে হবে।

অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা কত?

অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা

অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা কর্তৃক অভিযোগ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা নিম্নরূপ-

সাধারণভাবে অভিযোগ নিষ্পত্তির সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০ কার্যদিবস;

তদন্তের উদ্যোগ গৃহীত হলে অতিরিক্ত ২০ কার্যদিবস সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

আপিল কর্মকর্তা

অভিযোগ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্য সকল সরকারি দপ্তরে একজন ঊর্ধতন কর্মকর্তাকে আপিল কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে বা অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থায় সংক্ষুব্ধ হলে বা উক্ত কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দাখিলের সুযোগ না থাকলে বা অভিযোগ দাখিলের পর প্রতিকার পেতে ব্যর্থ হলে অভিযোগকারী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আপিল কর্মকর্তা নিকট অনলাইনে (www.grs.gov.bd) বা প্রচলিত পদ্ধতি নির্ধারিত ফরমে (ক-২) আপিল দাখিল করতে পারবেন। 

আপিল দাখিলের তারিখ থেকে অনধিক ২০ কার্যদিবসের মধ্যে আপিল কর্মকর্তাকে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে।

অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলে আপিল

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল গঠিত।

কোন অভিযোগ মন্ত্রণালয়/বিভাগের আপিল কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট হলে অনলাইনে (www.grs.gov.bd) অথবা প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফরমে (ফরম ক-৩) অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলে অভিযোগ দাখিল করতে হবে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ব্যতীত অন্যান্য যে কোন দপ্তরের আপিল কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ হলে অনলাইনে (www.grs.gov.bd) অথবা প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফরমে ( ফরম ক-৪) অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলে আপিল করতে হবে।

অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলকে সর্বোচ্চ সময়সীমা অনধিক ৬০ কার্যদিবসের অভিযোগ/আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে।

অভিযোগ নিষ্পত্তির সর্বশেষ অবস্থা কিভাবে জানা যাবে?

ওয়েব-ভিত্তিক অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থায় প্রাপ্ত অথবা আপলোডকৃত অভিযোগসমূহের ট্র্যাকিং নম্বর সম্বলিত এসএমএস এবং/অথবা ইমেইল অভিযোগকারীকে প্রদান করতে হবে। ওয়েব-ভিত্তিক সিস্টেম চালু না থাকলে এসএমএস, ইমেইল অথবা ডাকযোগে প্রাপ্তিস্বীকার প্রদান করতে হবে।

অনলাইন অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার ওয়েবসাইটে (www.grs.gov.bd) ‘অভিযোগের অবস্থা জানুন’ বাটনে ক্লিক করে প্রাপ্ত ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে অভিযোগ নিষ্পত্তির সর্বশেষ অবস্থা জানা যাবে। এছাড়া ব্যবহারকারী হিসেবে লগইন করে অভিযোগের তালিকা থেকে অভিযোগ নিষ্পত্তির সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন।